InstaForex

শরণার্থী সঙ্কট ॥ পথ খুঁজছে ইউরোপ

শরণার্থী সঙ্কট

পথ খুঁজছে ইউরোপ

Migrant
যুদ্ধ আর সহিংসতায় বাস্তুচ্যুৎ সাড়ে আট লাখ মানুষ চলতি বছর এবং আগামী বছরে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে আশ্রয়ের আশায় ইউরোপে ঢুকবে বলে ধারণা করছে জাতিসংঘ; সঙ্কট উত্তরণের কোনো পথও আপাতত নজরে আসছে না। শরণার্থীর এই গ্রোত সামাল দিতে ধনী দেশগুলোর অভিবাসন আইন ঢেলে সাজানো প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছে জাতিসংঘ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোন দেশ কতজন শরণার্থীকে জায়গা দেবে, তার একটি খসড়া পরিকল্পনাও বুধবার প্রকাশ করার কথা রয়েছে। সিরিয়া ও লিবিয়ার যুদ্ধ, আফগানিস্তানের অস্থিরতা এবং ইরিত্রিয়ার দমন-পীড়নের কারণে দুই বছর আগে ইউরোপমুখী দেশান্তরের প্রবণতা বাড়তে শুরু করে। 

Migrant
সাম্প্রতিক সময়ে শরণার্থীদের বহনকারী নৌকা ডুবে ভূমধ্যসাগরে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যুর পর এ সঙ্কটের ভয়াবহতা নতুন মাত্রা নিয়ে বিশ্বের সামনে হাজির হয়। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলছে, ২০১৫ সালে অন্তত চার লাখ মানুষ ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে আফ্রিকা থেকে ইউরোপে আশ্রয়ের আবেদন করতে পারে। আর ২০১৬ সালে এই আবেদনের সংখ্যা সাড়ে ৪ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র উইলিয়াম স্পিন্ডলারকে উদ্ধৃত করে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছর এরই মধ্যে ৩ লাখ ৬৬ হাজার শরণার্থী ইউরোপে পৌঁছে গেছেন। আসছে শীতে সাগর অনেক বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠলে সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে আসার চেষ্টা কমবে কি না- তার ওপরই পুরো পরিস্থিতি নির্ভর করবে। অবশ্য শীতের মাসগুলো এগিয়ে এলেও শরণার্থীর গ্রোত কমার কোনো লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না। 

Migrant
বরং সিরীয়দের শরণার্থীদের ক্ষেত্রে জার্মানির আইন শিথিল করার ঘোষণায় সাগর পাড়ি দেওয়ার ভয়ঙ্কর চেষ্টা আরও বেড়ে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। ইউএনএইচসিআর বলছে, গত সোমবার এক দিনেই মেসিডোনিয়ায় প্রবেশ করেছেন সাত হাজার সিরীয় শরণার্থী, যা এক দিনের হিসেবে সর্বোচ্চ। প্রায় ৩০ হাজার শরণার্থী এখন অবস্থান করছেন ভূমধ্যসাগরে গ্রিসের বিভিন্ন দ্বীপে, যারা হাঙ্গেরি, অস্ট্রিয়া হয়ে জার্মানি যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। এর মধ্যে লেসবস দ্বীপেই আছে ২০ হাজার শরণার্থী। এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোর মধ্যে এক লাখ ২০ হাজার শরণার্থীর দায়িত্ব ভাগ করে দিতে একটি পরিকল্পনার খসড়া বুধবার প্রকাশ করা হবে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। 

Migrant
অবশ্য এই সঙ্কট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে গিয়ে এরই মধ্যে জোটের দেশগুলোর মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। চেক রিপাবলিক, স্লোভাকিয়া, পোল্যান্ড ও রোমানিয়া শরণার্থী নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের কোটা বেঁধে দেওয়ার বিরোধিতা করেছে। খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইটালি, গ্রিস ও হাঙ্গেরিতে অবস্থানরত শরণার্থীদের ৬০ শতাংশ জার্মানি, স্পেন ও ফ্রান্সে জায়গা পাবে। সংখ্যা ঠিক করা হবে জিডিপি, জনসংখ্যা ও বেকারত্বের হারের ভিত্তিতে। যেসব দেশ এই কোটা মানতে অস্বীকার করবে, তাদের আর্থিক জরিমানা করার কথাও খসড়ায় রাখা হয়েছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনের তথ্য। 

Aylan
এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার যেসব দেশ থেকে শরণার্থীরা আসছে, সেসব দেশকে আর্থিকভাবে এবং মানব পাচার প্রতিরোধে সহযোগিতা দেওয়ার কথাও এতে বলা হয়েছে। এই কোটা ব্যবস্থাকে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মের্কেল দেখছেন সঙ্কট উত্তরণের ‘গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ধাপ’ হিসেবে। তিনি বলেছেন, আশ্রয় পাওয়ার অধিকার যাদের আছে, তাদের ক্ষেত্রে আরও খোলামেলা একটি ব্যবস্থা ইউরোপীয় ইউনিয়নকে নিতে হবে।  
Share on Google Plus

About Unknown

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment