InstaForex

কুকুরের কবলে নবজাতক...

কুকুরের কবলে নবজাতক...

Neo
আয়লান কুর্দি নামে সিরীয় এক শিশুর নিথর দেহ সমুদ্র সৈকতে পড়ে থাকার ঘটনায় বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। নির্মম সেই দৃশ্যে মানবতার বিপর্যয়ে যখন হাহাকার করে উঠছে বিশ্ববাসী তখন ঢাকার নর্দমায় পাওয়া গেছে কুকুরে কামড়ানো এক নবজাতককে! মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কুকুরের কবল থেকে নবজাতকটিকে উদ্ধার করে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকে কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে। ঢামেকের নবজাতক ওয়ার্ডের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছে শিশুটি। নবজাতক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর আবিদ হোসেন মোল্লা তার চিকিৎসার দায়িত্বে রয়েছেন। শিশুটির অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, শিশুটির ক্ষত জায়গাগুলো থেকে প্রচুর রক্ত ঝরছিলো। বর্তমানে রক্ত ঝরা বন্ধ হয়েছে। তিনি বলেন, ময়লায় পড়ে থাকায় এবং কুকুর কামড় দেওয়ায় সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। আশঙ্কা কাটাতে তাকে সংক্রমণ ব্যাধি টিকাও দেওয়া হয়েছে। শিশুটিকে স্যালাইনের মাধ্যমে পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হচ্ছে। নবজাতকটির উন্নত চিকিৎসার জন্য আবিদ হোসেনকে প্রধান করে প্লাস্টিক সার্জারি, শিশু সার্জারি, নাক, কান ও গলা বিভাগের চিকিৎসক ও সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের একজন চিকিৎসকসহ মোট ৯ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। নবজাতকটিকে উদ্ধারকারী দম্পতি জাহানারা ও তার স্বামী সাগর এখনও শিশুটির পরিচর্যা করছেন। ঘটনা সম্পর্কে তাদের কাছ থেকে জানা যায়, বিকেলে পুরাতন বিমানবন্দরের মাঠের আবর্জনার ভেতর থেকে নবজাতকটিকে উদ্ধার করেন তারা। উদ্ধারকারী এই দম্পতির বাসা রাজধানীর উত্তর কাফরুলে। পুর্ব শেওড়াপাড়ায় সাগরের একটি লন্ড্রির দোকান আছে। একার উপার্জনে দুই ছেলে, তিন মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে সংসার চালান সাগর। সংসারে এতজন থাকা সত্ত্বেও শিশুটিকে নিজেদের সন্তান হিসেবেই পেতে চান এই দম্পতি। শিশুটি সুস্থ হয়ে ওঠার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যদি শিশুটিকে তাদের হাতেই তুলে দেয় তবে তারা আনন্দমনেই শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে চান। শিশুটিকে উদ্ধারের পর এখন পর্যন্ত তার পরিচয় মেলেনি। কেউ তাকে নিতেও আসেননি। এক্ষেত্রে উদ্ধারকারী দম্পতি তাকে পাওয়ার দাবি করতেই পারেন। কিন্তু বড় হওয়ার পর কি সে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে? শিশুটির বয়স মাত্র দেড় দিন। জন্মের পর পরই মায়ের দুধের পরিবর্তে কুকুরের কামড় খেতে হয়েছে তাকে। রাষ্ট্র হয়তো শিশুটিকে ঠাঁই দেবে, সমাজ তাকে বড় করে তুলবে। কিন্তু আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজের গৎবাঁধা নিয়ম কি তাকে মেনে নেবে?
Share on Google Plus

About Unknown

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment