নদীর পানি ক্রমেই বাড়ছে
ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে বন্যা
দেশের উত্তর, মধ্য ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। ২০টি পয়েন্টে ১৫টি নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সংস্থাটি জানায়, রাজধানী ঢাকার চারপাশ দিয়ে প্রবাহিত শীতলক্ষ্যা, বুড়িগঙ্গা, বালু ও তুরাগ নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের উপর মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় দিনের প্রথমভাগের পর সোমবার বিকেল ৪টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা, সিলেট, রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। দেশের উত্তর, মধ্য ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, ফেনী, রংপুর, কুড়িগ্রাম, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা, সুনামগঞ্জ, জামালপুরে বন্যা দেখা দিয়েছে।
এ সব জেলার লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, ‘ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে বেশিরভাগ নদীর পানি বাড়ছে। এ জন্য বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে এবং আরও হবে।’ তিনি বলেন, ‘উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানির বৃদ্ধি পাচ্ছে যা আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তর, মধ্য এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলার কিছু স্থানের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।’ ‘ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে ও যমুনা নদীর পানির সমতলে স্থিতিশীল অবস্থায় আছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানি সমতলে বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে গঙ্গা ও পদ্মা নদীর পানি কমছে যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে’ জানান এ প্রকৌশলী। আরিফুজ্জামান আরও বলেন, ‘ঢাকার নদীগুলোর পানির সমতলে বৃদ্ধি পাচ্ছে যা আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে বৃষ্টি আরও কয়েকদিন থাকলে ঢাকার নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিতে পারে।’
আবহাওয়া অধিদফতরের একজন আবহাওয়াবিদ জানিয়েছেন, সোমবার সারা দেশেই বৃষ্টি হচ্ছে। ঢাকায় ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। নদ-নদীর অবস্থার বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৮৫টি পানি সমতল স্টেশন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী দু’টি স্টেশনে অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। পানি বেড়েছে ৫৩টি স্টেশনে, কমেছে ৩০টি স্টেশনে। ২০টি স্টেশনে পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। ১৫ নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা, চকরহিমপুরে করতোয়া, সারিয়াকান্দি ও সিরাজগঞ্জে যমুনা, সিংড়ায় গুর, বাঘাবাড়িতে আত্রাই, এলাসিনে ধলেশ্বরী, লাখপুরে লাক্ষা, গোয়ালন্দ, ভাগ্যকূল ও সুরেশ্বরে পদ্মা নদীর পানি, ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ, কানাইঘাট ও সুনামগঞ্জে সুরমা, অমলশীদ ও শেওলায় কুশিয়ারা, দিরাইয়ে পুরাতন সুরমা, লরেরগড়ে যদুকাটা, জারিয়াজঞ্জাইলে কংস ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। অতি ভারি বৃষ্টির কারণে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।





0 comments:
Post a Comment