বন্যা মোকাবেলায় উদ্যোগী হোন
এ দেশে বন্যা-খরা-ঝড়-ঝঞ্ঝা নতুন কিছু নয়। বর্তমানে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অনেক এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব স্থানে বন্যা পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি ঘটছে। ৬৪ জেলার মধ্যে কমপে ১৬ থেকে ২০ জেলায় পানি বাড়ার কারণে ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। দেশে ঘটনার এত ঘনঘটা যে, বন্যা পরিস্থিতির ছবি কিংবা গুরুত্ব পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় উঠে আসতে পারছে না। যদিও কোনো কোনো সংবাদপত্র বন্যার সংবাদকে প্রথম পৃষ্ঠায় ঠাঁই দিয়েছে। তবে বন্যা পরিস্থিতি যতটা মনোযোগ পাওয়া দরকার ততটা পাচ্ছে না প্রশাসনের কাছে। এবারের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে মূলত উজান থেকে নেমে আসা ঢলে এবং গত দুসপ্তাহের টানা বর্ষণের কারণে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ না নিলেও এবারের বন্যা পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতিতে বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘস্থায়ী বন্যার আশংকা করছেন। পৃথিবীব্যাপী মানুষের অবিবেচনাপ্রসূত কর্মকাণ্ডে পাল্টে যাচ্ছে বিশ্ব জলবায়ুর চরিত্র। বাংলাদেশেও এমন অবিবেচনাপ্রসূত কর্মকাণ্ড কম নয়। বাড়তি জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে গিয়ে আমাদের বনভূমি উজাড় হচ্ছে, গ্রামের খাল-বিল-জলাভূমি ভরাট করে গড়ে তোলা হচ্ছে বাড়িঘর, কলকারখানাসহ নানারকম স্থাপনা। ক্রমাগত কৃষিভূমি হারাচ্ছে দেশ। এসবের স্বাভাবিক পরিণতি হচ্ছে এই যে, সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা, বড় শহরগুলোও তলিয়ে যাচ্ছে পানির নিচে। আর টানা বর্ষণের সঙ্গে উজানের ঢল যুক্ত হয়ে ডুবিয়ে দিচ্ছে গ্রামের জনপদ। বর্তমানে দেশে যে বন্যা পরিস্থিতি চলছে তা উদ্বেগজনক। কিন্তু বন্যা মোকাবেলায় স্থানীয় প্রশাসনসহ সরকারি পদপেকে নামকাওয়াস্তে বললে অত্যুক্তি হবে না। কারণ বানভাসি মানুষ বিভিন্ন স্থানে উঁচু রাস্তা কিংবা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে অবস্থান নিয়ে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা চালিয়ে গেলেও তাদের অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে। জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সাহায্য-সহযোগিতা তাদের কাছে পৌঁছুচ্ছে না। ফলে পানিবাহিত রোগ-বালাইয়ের শিকার হচ্ছে অনেকেই। আমরা মনে করি, বন্যাপীড়িত জেলাগুলোর প্রশাসন উদ্যোগী হয়ে বন্যার্ত মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিয়ে বন্যার্ত মানুষদের জীবন রায় এগিয়ে আসবে। বন্যার পর তিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের কাজে সহযোগিতা করবে। বেসরকারি পর্যায় থেকেও বন্যার্তদের সহায়তায় এগিয়ে আসা উচিত।

0 comments:
Post a Comment