InstaForex

কসাই রেট ॥ পিক-আওয়ার ২শ’ নন-পিকে দেড়শ’

কসাই রেট ॥ পিক-আওয়ার ২শ’ নন-পিকে দেড়শ’

Butcher
প্রতি বছর ঈদকে সামনে রেখে মৌসুমী কসাই আসে ঢাকায়। এ ছাড়া  অন্য পেশার মানুষও ঈদের সময় মৌসুমী কসাই হিসেবে কাজ করে। মাংস কাটার জন্য তারা পিক আওয়ার এবং ননপিক আওয়ারে সময় ভাগ করে নিয়েছেন। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময়কে পিক আওয়ার ধরে এসময় হাজারে ২০০ টাকা এবং দুপর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অর্থা ননপিক আওয়ারে ১৫০ টাকা এবং ঈদের পরের দিন কোরবানির গরু কাটতে হাজারে ১০০ টাকা নির্ধারণ করেছেন তারা। ঈদুল আযহার গরুর মাংস প্র্রস্তুত করে দিতে গরু কেনার দামের সঙ্গে মিল রেখে হাজারে ২০০ টাকা চাইলেও রাজধানীর অভিজাত এলাকায় পারলে আরো বেশি দর আদায় করে নিচ্ছেন মৌসুমি কসাইরা। তাদের দাবি গত বছর হাজারে ২০০টাকা করে নেয়া হয়েছে সে তুলনায় তাদের পারিশ্রমিক বাড়ানো হয়নি এবং এটি তাদের যৌক্তিক দাবি বলেও জানান তারা। তবে তাদের দর দেখে কোরবানির যারা দিচ্ছেন তাদের অনেকে কিছুটা হতাশ। এর কারণ হিসেবে অনেকে বলছেন, কসাই বলে পরিচয় দিলেও এদের অনেকে পেশাদার নয় বলে পশুর চামড়া বা মাংস কাটতে যেয়ে তা নষ্ট করে ফেলে। কিš‘ তখন তাদের আর কিছু বলার থাকে না। আবার কসাইদের এধরনের পিক আওয়ার ও ননপিক আওয়ার ভাগ করাকে অনেকে আর্থসামাজিক দিক থেকে বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। রাজধানীর শেওড়াপাড়ার ভাড়া থাকেন কাদের মিয়া। পেশায় রিকশা চালক। তবে প্রতিবছর কুরবানির ঈদে কসাইয়ের কাজ করেন। কোরবানির ঈদে মাংস প্র্রস্তুত করে দিতে গরু মূল্যের ওপর হাজারে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দিতে হবে বলে জানালেন তিনি। তাদের হিসাবে এক লাখ টাকা মূল্যের গরুতে কোরবানিদাতার গুনতে হবে ২৫ হাজার টাকা। এদিকে তাদের এই দামের কথা শুনে আঁতকে উঠেছেন কোরবানিদাতারা। তারা বলছেন, গলা কাটা ডাকাতির মতো অবস্থা, কসাইরা সুযোগের সদ্বব্যবহার করতে চাইছেন। কাজিপাড়া বাজারের তরকারি বিক্রেতা স্বপন বলেন, কেউ কোরবানির পশু আমাদের দিয়ে বানাতে চাইলে হাজারে ২০০ টাকা দিতে হবে। তিনি বলেন, এবারের গরুর সংখ্যা প্রচুর, কাজও রয়েছে সুতরাং দাম কমানোর প্রশ্নই আসে না। একই দরের কথা জানালেন আরেক মৌসুমি কসাই শাহ আলম। তিনি বলেন, সকালে দুটি কাজ আছে ২০০ টাকা করে দুপুরের পর যদি কেউ কাজ করায় তাহলে ১৫০ টাকা এবং ঈদের পর দিন হলে দিতে হবে হাজারে ১০০ টাকা করে। ইতালি প্রবাসি সেলিম হোসেন শাহ আলম কসাইদের এমন দামের কথা শুনে রীতিমতো হতবাক হয়ে বলেন, এটাতো গলা কাটা ডাকাতির মতো অবস্থা। তিনি আরও বলেন, যদি এক লাখ টাকায় ২৫ হাজার টাকা দিতে হয়, তাহলে সাধারণভাবে ওই টাকা দিয়ে আরেকটি গরু কোরবানি দেওয়া যায়। শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা জামাল হোসেন বলেন, কোরবানির গরু ৭০ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছি। কিন্তু এখন জবাই ও মাংস কাটার জন্য কসাইদের দিতে হবে ১৪ হাজার টাকা। এ ব্যাপারে মৌসুমি কসাই হামিদ বলেন, একটি গরুর চামড়া ছাড়ানো ও মাংস কেটে দেয়ার বিনিময়ে পারিশ্রমিক হিসেবে ১৪ হাজার টাকা দাবি করা অস্বাভাবিক না। তিনি বলেন, আমরা তিনজন কসাই মিলে এই কাজ করবো। তাই এর চাইতে কম হলে পোষাবে না।
Share on Google Plus

About Unknown

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment