নীতিমালার তোয়াক্কা করে না বাড়ির মালিকরা
রাজধানীতে বছর বছর বাড়ি ভাড়া বাড়ানো স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাড়াটিয়াদের অভিযোগ, বাড়ি ভাড়া নিয়ে নীতিমালা থাকলেও তা মানেন না বেশিরভাগ বাড়ির মালিক। সিটি করপোরেশন বলছে, হোল্ডিং ট্যাক্স না বাড়ালেও কোনো নিয়মনীতিরই তোয়াক্কা করেন না বাড়ির মালিকরা। এর উপর গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোয় শাপে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে বাড়িওয়ালাদের জন্য। সম্প্রতি বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়া দ্বন্দ্ব নিরসনে হাইকোর্ট নির্দেশনা দিলেও এর বাস্তবায়ন শুরু হয়নি এখনো। স্বামী-সন্তানকে নিয়ে কাঁঠালবাগানের একটি ফ্লাটে থাকেন ফৌজিয়া হক। স্বামী-স্ত্রী দু’জন চাকরি করলেও প্রতি মাসে আয়ের বড় একটা অংশই চলে যায় বাড়ি ভাড়ার টাকা গুণতে।
এর উপর রয়েছে হুটহাট করে ভাড়া বাড়ানোর বিড়ম্বনা। চাকরিজীবী ছাড়াও রাজধানীর ভাড়াটিয়াদের একটা বড় অংশ বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী। তাদের অভিযোগ, বাড়ি ভাড়া আইন অনুযায়ী ভাড়া দেয়ার আগে চুক্তিপত্র সম্পাদনের নিয়ম থাকলেও তা মানেন না বাড়িওয়ালারা। সম্প্রতি সরকার গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোয় বাড়ি ভাড়ায়ও এর প্রভাব পড়েছে। এদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বলছে, বাড়ি মালিকরা অতি উৎসাহী হয়ে ভাড়া বাড়ান। বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমেই সমাধান হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। বাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে ২০১০ সালে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করে বেসরকারি একটি সংস্থা। এর পাঁচ বছর পর গত জুলাই মাসে ছয় মাসের মধ্যে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ কমিশন গঠন করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ জানান, যে রায় হয়েছে তার কপি আমরা এখনো হাতে পাইনি। কমিশন গঠন করার ব্যাপারে যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সেটা তারা করতে পারত। হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়, মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাত সদস্যের বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ কমিশন গঠন করবেন। কমিশন গঠন হলে বাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত বিরোধ নিরসনে তা কার্যকর ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা ভাড়াটিয়াদের।


0 comments:
Post a Comment