হ্যাপির শরীরে শাহাদাতের নির্যাতনের চিহ্ন
জাতীয় দলের ক্রিকেটার শাহাদাত হোসেন রাজিবের নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মী শিশুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন। মাহফুজা আক্তার হ্যাপি নামে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন শনাক্ত করেছেন চিকিৎসকরা। সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ওসিসি’র সমন্বয়কারী ডা. বিলকিস বেগম জানান, রাত সাড়ে তিনটায় ওসিসিতে হ্যাপিকে ভর্তি করা হয়। তখন থেকে তার চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে। শিশুটির দুই চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার বাম পায়ে ফ্র্যাকচার দেখা দিয়েছে। অর্থপেডিক, নিউরোসার্জারি ও চক্ষু বিভাগের তত্ত্বাবধানে হ্যাপির চিকিৎসা চলছে। তার বাম পায়ে প্লাস্টার করা হয়েছে। ওসিসি’র মাধ্যমে কাউন্সিলিংও করা হয়েছে বলেও জানান ডা. বিলকিস। নির্যাতিত শিশুটি তার ওপর সংঘটিত নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে বলে, ‘ভাইয়া শাহাদাত আমার পেটে লাত্থি দিয়ে বলে সুজিতে হলুদ মরিচ কেন মিশিয়েছিস?’ প্রায় এক বছর আগে নানী মনোয়ারার মাধ্যমে ক্রিকেটার শাহাদাতের বাসায় গৃহকর্মীর কাজে যোগ দেয় হ্যাপী। তার মা ও বাবা অন্যত্র বিয়ে করে চলে গেছে। শুরুতে শাহাদাতের সন্তানের দেখাশোনার জন্য কাজে যোগ দিলেও তাকে দিয়ে বাসার সব ধরনের কাজই করানো হতো বলেও জানায় হ্যাপি। হ্যাপি বলে, ‘একটা-দুইটা কাজে ভুল হলে হ্যাঙ্গার ও লাঠি দিয়ে পেটাতো শাহাদাত ভাইয়া ও তার স্ত্রী নিত্য আপু।
পরশু দিন বাচ্চার সুজি জাল দিয়ে ফ্রিজে রেখে দেওয়ার পর বের করলে হলুদ হলুদ দেখায়। সেটা দেখে শাহাদাত ভাইয়া আমার পেটে লাত্থি দিয়ে বলে তুই সুজিতে হলুদ-মরিচ দিছিস? মারের ভয়ে আমি বলি দিছি। এরপর আমাকে আরও মারধর করে। নিত্য আপু বলতে থাকে বেত নিয়ে আসবা। বেত দিয়ে পেটাতে হবে। এরপর আমি বাসা থেকে পালাই। গত দুদিন যাবত একজন ছুটা বুয়া রাখছে। সেই বুয়া ঘরে ঢোকার সময় দরজা খোলা পেয়ে আমি পালায়ে আসি।’ রোববার (০৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ‘কাজের মেয়ে হারিয়েছে’ দাবি করে মিরপুর থানায় জিডি করেন ক্রিকেটার শাহাদাত হোসেন। এরপর মেয়েটিকে আহত অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় কালশী থেকে রাত ৮টায় উদ্ধার করে পল্লবী থানা পুলিশ। পরে থানায় ক্রিকেটার শাহদাত ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ করে শিশু গৃহকর্মী মাহফুজা আক্তার হ্যাপি। পুলিশও অভিযোগ আমলে নিয়ে অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান শুরু করেছে। তবে শাহাদাত হোসেন ও তার স্ত্রী বাসা ত্যাগ করে পালিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।


0 comments:
Post a Comment