দেশজুড়ে বন্যার অবনতি, ত্রাণ অপ্রতুল
ধরলা, দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র, পদ্মাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বন্যাকবলিত জেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলো কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, শেরপুর, জামালপুর ও ফরিদপুর। কুড়িগ্রাম থেকে আহসান হাবিব নীলু জানান, সোমবার সকালে ধরলার পানি বিপদসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, পানিবন্দি মানুষের মাঝে বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন জানায়, জেলার নয়টি উপজেলার ৬৫টি ইউনিয়নের ৪০৫টি চর-দ্বীপ চর এবং নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় প্রায় ৫ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজার রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলায় ২ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। তবে ব্রহ্মপুত্রে ৪ সেন্টিমিটার, দুধকুমোরে ৭ সেন্টিমিটার পানি কমেছে। রৌমারী উপজেলার যাদুর চর ইউনিয়নে জিঞ্জিরাম নদীর তীব্র গ্রোতে লালকুড়া রাবার ড্যাম রোডের প্রায় ৩০ মিটার ভেঙে গেছে। একই ইউনিয়নের ধনার চর গ্রামের বেড়ি বাঁধের আটশ ফুট ভেঙে গেছে। এছাড়া লালকুড়া থেকে বকবান্ধা ব্যাপারীপাড়া সড়কে তিন কিলোমিটার রাস্তা ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গত তিন দিনে ইউনিয়নে শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ভেসে গেছে। যাদুর চর ইউনিয়নের পাহাড়তলী, যাদুর চর, কোমরডাঙ্গি, ঝুনার চর, খেয়ার চর মৌজার ৫৩টি গ্রামের মধ্যে ৪৫টি গ্রাম বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। কাজ না থাকায় অর্থকষ্টে পড়েছেন দিনমজুররা। পানিবন্দি অনেকেই নিজের বাড়িতে মাচার উপর অবস্থান নিয়েছে। শুকনো খাবার, ম্যাচ ও মোমবাতিসহ দরকারি সরঞ্জাম ফুরিয়ে গেছে। গৃহপালিত পশু-পাখি মারা যাচ্ছে। জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন জানান, সোমবার বন্যার্তদের জন্য নতুন করে ৫০ মেট্রিক টন চাল ও তিন লাখ ৫৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। “ঢাকা থেকে বরাদ্দ পাওয়া গেছে ১০০ মেট্রিক টন চাল ও ৩ লাখ টাকা। জেলায় কমবেশি প্রায় ৫ লাখ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে আরও ত্রাণ বরাদ্দ চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।” শেরপুর প্রতিনিধি আব্দুর রহিম বাদল জানান, পুরনো ব্রহ্মপুত্রের পানিবৃদ্ধির ফলে শেরপুর সদর উপজেলার চরাঞ্চলের কামারেরর চর, চর পক্ষীমারী, চর মোচারিয়া, রৌহা, বেতমারী-ঘুঘুরাকান্দি ও বলাইরচর ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইলিয়াছ উদ্দিন জানান, ব্রহ্মপুত্র নদের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের জঙ্গলদি, চুনিয়ার চর, ভাগলগড় ও হরিণধরা এলাকার পুরনো ভাঙনের অংশ দিয়ে প্রবলবেগে পানি প্রবেশ করায় এসব গ্রামের অধিকাংশ রোপা আমন ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। রোববার বিকাল থেকে শেরপুর-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পোড়ার দোকান এলাকায় কজওয়ের ওপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে ওই সড়কে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে বলে জানান তিনি। চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আকবর আলী জানান, তার ইউনিয়নের সাত পাইকা গ্রামের ৫ শতাধিক একর জমির রোপা আমন ধান এখন কয়েক ফুট পানির নিচে। তলিয়ে গেছে অনেক সবজি বাগানও। বন্যায় সব গ্রামীণ রাস্তাঘাট ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কুলুরচর এলাকায় ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে ৫৬টি বসতঘর ভিটাসহ নদীগর্ভে চলে গেছে বলে জানান তিনি। কামারের চর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, তার ইউনিয়নের ৬ নম্বর চর, ৭ নম্বর চর, পয়েস্তীর চর ও গোয়ালপাড়া গ্রামের অধিকাংশ নিচু এলাকা বন্যা কবলিত হয়েছে। রোপা আমন ধান ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে।
ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও তা এখনও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানান তিনি। শেরপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পিকন কুমার সাহা জানান, এবার ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধির ফলে চরাঞ্চলের ৬টি ইউনিয়নের গ্রায় ২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমির আমন আবাদ ও ১৫০ হেক্টর জমির সবজির আবাদ পানিতে তলিয়ে গেছে। জামালপুর প্রতিনিধি লুৎফর রহমান জানান, সোমবার যমুনার পানি বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক জানান, সোমবার সকালে বন্যার পানিতে ডুবে পূর্ব চর মুন্নিয়া গ্রামের আব্দুর রহিমের ৩ বছর বয়সী মেয়ে সীমা মারা গেছে। জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নব কুমার চৌধুরী জানান, জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। যমুনার পানি এখনও বিপদসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জামালপুর জেলা ত্রাণ কার্যালয় থেকে যায়, জেলার ৬৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪৯টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৯ হাজার ৩২১টি পরিবারের দুই লাখ ৮ হাজার ৯৪০ জন মানুষ। জেলার ১২ হাজার ৯৬৩ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও ৫৭ কিলোমিটার রাস্তা সম্পূর্ণ এবং ৩০৭ কিলোমিটার রাস্তা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসলামপুরের শীলদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যমুনা গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। জামালপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, জেলার বন্যার্তদের সাহায্যে ২৭৫ মেট্র্রিক টন জিআর চাল ও ৬ লাখ ৫০ হাজার নগদ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গাইবান্ধা প্রতিনিধি তাজুল ইসলাম রেজা জানান, সোমবার গাইবান্ধার আরও ১১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে অন্তত ৫৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ফলে কয়েকদিনের বন্যায় জেলার সাত উপজেলার ৮২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬৫টি ইউনিয়নের ৫৩১টি গ্রামের ৩ লাখ ৫৮ হাজার ১৭৮ জন পানিবন্দি হয়ে আছে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও গো-খাদ্য সংকট। এছাড়া পয়ঃনিষ্কাষণ সমস্যাও প্রকট আকার ধারণ করেছে। সরেজমিনে গিয়ে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পানিবন্দিরা আশ্রয় নিয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, স্কুল-কলেজ ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে। আবার অনেকে ঘরের মধ্যে মাচা করে রাত যাপন করছেন। নতুন করে আরও ১৫ হাজার ২১৬ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এতে জেলায় এখন পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে ৫৪ হাজার ৬৬৪ হেক্টর জমির ফসল। নতুন করে ১৯৭ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা বিধস্ত হওয়ায় গাইবান্ধায় যোগযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বন্যার পানিতে বিদ্যালয় চত্বর ও শ্রেণিকক্ষ নিমজ্জিত হওয়ায় জেলার ১৬৮টি বিদ্যালয়ে তিন সপ্তাহ ধরে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে ঘাঘট নদীর গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধ। এদিকে ঘাঘট নদীর পানিতে লক্ষ্মীপুর-গাইবান্ধা ও সাদুল্লাপুর-গাইবান্ধা সড়ক তলিয়ে গেছে। সরকারি অপ্রতুল ত্রাণ তৎপরতায় নিম্ন আয়ের মানুষরা চরম সংকটে পড়েছে। দুর্গত এলাকায় বে-সরকারি কোন সংস্থার ত্রাণ তৎপরতাও নাই। সাদুল্লাপুর, পলাশবাড়ী, গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার বন্যাদুর্গত এলাকায় এখন পর্যন্ত কোন সংসদ সদস্যকেও দেখা যায়নি। করতোয়া ও তিস্তার পানি বিপদ সীমার সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানান গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আউয়াল মিয়া। “সোমবার ব্রহ্মপুত্রের পানি ৩ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে এখন বিপদসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার এবং ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার ৬০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।” তিনি বলেন, অপ্রতুল অর্থ বরাদ্দের কারণে ৫/৬ বছর ধরে ঘাঘট নদীর গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধ সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া দুই সপ্তাহের স্থায়ী বন্যায় বাঁধটি হুমকির মুখে পড়েছে। তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড সর্তক রয়েছে বলে জানান তিনি। সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের মানদুয়ার পাড়া গ্রামের রাস্তায় আশ্রয় নেওয়া জোবেদা বেগম বলেন, “বানের পানিত ঘরবাড়ি ডুবি যাওয়ায় সড়োকোত আশি উঠছি। এ্যাখন পর্যন্ত কেউ খোজও ন্যাই নাই, এক ছঁটাক চাউলও দেয় ন্যাই। ধার দেনা আর চায়্যা নিয়্যা খ্যায়া না খ্যায়া দিন পার করতেছি।” একই গ্রামের আব্দুস সামাদ বলেন, “এ পর্যন্ত চেয়ারম্যান খালি ৫ কেজি চাউল দিছে। আর কেউ কিছু দেয়নি।” সাদুল্লাপুর নলডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. নুর আলম নান্টু বলেন, “এ পর্যন্ত পাঁচ মেট্রিক টন চাউল বরাদ্দ পেয়েছি। যা ইউনিয়নের বন্যা কবলিত ৯টি গ্রামের তিন হাজার ৪০০ পানিবন্দি লোকের এক হাজার জনের মধ্যে ৫ কেজি করে বিতরণ করেছি।” ত্রাণের অভাবে নিম্ন আয়ের মানুষদের অবস্থা এখন চরম সংকটে বলে জানান তিনি। গাইবান্ধা সদর উপজেলার ঘাঘোয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুর জামান বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আমিনুল ইসলাম জানান, নতুন করে আরও ১৫ হাজার ২১৬ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ পুনর্বাসন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, বন্যায় জেলার সাদুল্লাপুর, পলাশবাড়ী, গোবিন্দগঞ্জ, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার ৫৩১টি গ্রামের ৩ লাখ ৫৮ হাজার ১৭ জন পানিবন্দি হয়ে আছে। জরুরি ভিত্তিতে বন্যা দুর্গত এলাকায় এ পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় ৫০৯ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১২ লাখ ২০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। ফরিদপুর প্রতিনিধি মফিজুর রহমান শিপন জানান, পদ্মার পানি গত ১২ ঘণ্টায় ৩ সেন্টিমিটার বেড়ে এখন বিপদ সীমার ৪৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার ছোট নদ-নদীর পানিও বেড়ে ফরিদপুরের নিম্নাঞ্চলের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জেলার চারটি উপজেলা সদর, চরভদ্রাসন, সদরপুর, আলফাডাঙ্গা নিম্নাঞ্চলের ১০টি ইউনিয়নের মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দুর্ভোগে রয়েছে। ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম তালুকদার বলেন, পদ্মার পানি প্রতিদিনই বাড়ছে। এভাবে হয়তো আরও দুই বা তিন দিন বাড়বে। গত ১২ ঘণ্টায় পদ্মায় ৩ সেন্টিমিটার পানি বেড়ে বিপদসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানান তিনি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, বন্যায় নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৫ হাজার হেক্টর বিভিন্ন ফসলী জমি তলিয়ে গেছে। বন্যার্তদের জন্য এ পর্যন্ত ৮৫ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসক সরদার সরাফত আলী জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রত্যেক পরিবারের জন্য ১০ কেজি চাল, আধা কেজি ডাল ও দুই কেজি আলু রয়েছে।


0 comments:
Post a Comment